অভাবের তাড়নায় মানসিক অবসাদে ভুগে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করল এক পরিযায়ী শ্রমিক

0
92

রেখা রায়, ইটাহার, উত্তর দিনাজপুর, ২৪ সেপ্টেম্বর;ভিন রাজ্য থেকে লকডাউনে বাড়ি ফিরে এসে গ্রামে কোনও কাজ না পেয়ে অভাবের তাড়নায় মানসিক অবসাদে ভুগে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করল এক পরিযায়ী শ্রমিক। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ব্লকের ইটাহার গ্রামপঞ্চায়েতের সুবর্ণপুর গ্রামে। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম জয়নাল আলি ( ৫০) । মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ইটাহার থানার পুলিশ। পরিযায়ী শ্রমিকের এভাবে মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ইটাহারের ওই গ্রাম জুড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইটাহার গ্রামপঞ্চায়েতের সুবর্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আলি হরিয়ানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। তার ছেলে হাসিরুদ্দিনও পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে ভিনরাজ্যে গিয়েছিলেন । দেশজুড়ে করোনা অতিমারির ফলে রাজ্যে রাজ্যে শুরু হয়ে যায় লকডাউন। বন্ধ হয়ে যায় হরিয়ানা সহ বিভিন্ন ভিনরাজ্যে শ্রমিকদের কাজ। জমানো কিছু টাকা দিয়ে হরিয়ানাতে নিজের পেট চালানোর পর সরকারের তরফে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ট্রেনের ব্যাবস্থা করলে জয়নাল ও তাঁর ছেলে ফিরে আসে ইটাহারে তাঁর নিজের বাড়ি সুবর্ণপুরে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য গ্রামেই কাজের ব্যাবস্থার কথা রাজ্য সরকার ঘোষনা করলেও কিন্তু এখানে এসেও জয়নাল বা তাঁর ছেলে হাসিরুদ্দিন কেউই আর কোনও কাজ পায়নি বলে জানা গিয়েছে। চেয়ে চিন্তে , ধার দেনা করে কিছুদিন সংসার প্রতিপালন করলেও অভাব অনটনে দিনে পর দিন বাড়তে থাকে তাঁদের। স্ত্রী সন্তান ও পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া দুস্কর হয়ে পড়েছিল তাঁর। পরিবার সূত্রে খবর, মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন জয়নাল আলি। বুধবার বিকেলেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন। বিষপান করে আত্মঘাতী হন জয়নাল বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। মূলত অভাবের তাড়নায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি এমনটাই ধারনা তাঁর আত্মীয় পরিজনদের। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ইটাহার থানার পুলিশ।

এ বিষয়ে মৃত ব্যক্তির ছেলে হাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, সংসারের অভাব অনটনের জন্য মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বাবা। বুধবার বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।

এ বিষয়ে জৈনুদ্দিন আহমেদ নামে এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, ভিন রাজ্য থেকে বাড়ি ফেরার পরে সংসার চালানোর মতো কোনো অর্থ উপার্জনের পথ ছিল না তার মানসিক অবসাদে বুধবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here