পারিবারিক বিবাদের জেরে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করল এক দম্পতি, কান্নায় ভেঙে পড়েছে একমাত্র মেয়ে।

0
69

বাবাই সূত্রধর,গঙ্গারামপুর,দক্ষিণ দিনাজপুর,১৬অক্টোবর; পারিবারিক বিবাদের জেরে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করল এক দম্পতি। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত্রে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার ২/১ বেলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের হালদার পাড়া এলাকায়।ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই এদিনের গণ্ডগোলের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। এরপর তর্কবিতর্কের মধ্য দিয়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ওই দম্পতি বলে জানিয়েছেন তারা।
ওই দম্পতির ঘরে আগুন দেখতে পেয়ে ঘটনাস্থলে এলাকাবাসীরা গিয়ে তড়িঘড়ি তাদের গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করলে স্ত্রীকে মৃত বলে ডাক্তাররা ঘোষণা করে এবং স্বামীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বালুরঘাট  সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করলে শুক্রবার তার মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। আগুনের ছোঁয়ায় ওই দম্পতির একমাত্র মেয়ের পিঠ পুড়েছে। এমন ঘটনাই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ মৃতদেহ দুটিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
             পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দম্পতি নাম নিত্য রাজবংশী(৩৬) ও গৌরী রাজবংশী (৩০) তাদের একমাত্র মেয়ে কৃষ্ণা রাজবংশী। নিত্য রাজবংশী পেশায় তিনি রিকশাচালক।
পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাত্রি দশটার নাগাদ খাওয়া-দাওয়া সেরে নিত্য ও তার স্ত্রী গৌরী সংসারে অভাব অনটন থাকায় দিল্লিতে  কাজে যাওয়া নিয়ে তর্ক বিতর্ক চলছিল। তর্ক বিতর্ক চরমসীমায় পৌঁছালে    গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে নেন দুজনেই, নয় বছরের তাদের একমাত্র মেয়ে কৃষ্ণা ঘুম থেকে উঠে মা-বাবার গায়ে আগুন দেখতে পেয়ে
চিৎকার ও আর্তনাদ করতে শুরু করে। কৃষ্ণার আর্তনাদ শুনে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ও গ্রামবাসীরা নিত্যর বাড়িতে এসে দেখেন নিত্য ও তার স্ত্রী গায়ে আগুন ধরিয়ে নিয়েছেন।
তড়িঘড়ি গঙ্গারামপুর থানায় ফোন করে পুলিশ ও গ্রামবাসীরা নিত্য ও তার স্ত্রী গৌরীকে গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ভর্তি করালে গৌরী রাজবংশী কে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন এবং নিত্য রাজবংশী র অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল স্থানান্তরিত করা হয়। শুক্রবার সকালে বালুরঘাট সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল নিত্য রাজবংশীর মৃত্যু হয়। এদিকে নিত্য ও গৌরীর একমাত্র মেয়ে কৃষ্ণা আগুনের ছোঁয়ায় পিঠ পুড়ে আহত অবস্থায় রয়েছে।

এ বিষয়ে মৃত নিত্য রাজবংশীর মা দিপালী রাজবংশী জানিয়েছেন, বউমা ও ছেলে দুই জনই দিল্লিতে কাজ করতে যাওয়ার কথা বলেছিল, ছেলে রাজি না হওয়ায় অশান্তি সৃষ্টি হয় এবং ওরা দুজনেই গায়ে আগুন লাগিয়ে নেয়।নাতনির পিঠ পুড়ে গেছে।

এ বিষয়ে মৃত নিত্য ও গৌরির একমাত্র মেয়ে কৃষ্ণা রাজবংশী কান্না করতে করতে জানায়, আমি কিছু জানিনা, ঘুম থেকে উঠেই দেখতে পাই বাবা-মায়ের গায়ে আগুন আমারও পিঠ আগুনে পুড়ে গেছে। আগুন দেখতে পেয়ে আমি সবাইকে ডাকতে চলে যাই।

এ বিষয়ে দুই গ্রামবাসীর সাধনা সরকার ও আনন্দ রাজবংশী জানিয়েছেন, চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পেরে এসে দেখি স্বামী স্ত্রীর গায়ে আগুন, তড়িঘড়ি গঙ্গারামপুর থানায় ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ এসে পুলিশ ও আমরা সবাই মিলে তাদের দু’জনকেই গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে জানতে পারি দুজনেই মারা গেছে।

এ বিষয়ে গঙ্গারামপুর থানার আইসি পূর্ণেন্দু কুমার কুন্ডু জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়। যদি এখনও পর্যন্ত কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবু আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

গায়ে আগুন লাগিয়ে স্বামী-স্ত্রী আত্মহত্যা করায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here