সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেখে মানবিকতার অনন্য নজির সৃষ্টি করে অসহায় এক বৃদ্ধের পাশে দাড়ালেন কালিয়াগঞ্জের পুর প্রশাসক কার্তিক পাল।

0
44

রেখা রায়,উত্তর দিনাজপুর,১নভেম্বর; সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেখে মানবিকতার অনন্য নজির সৃষ্টি করে অসহায় এক বৃদ্ধের পাশে দাড়ালেন কালিয়াগঞ্জের পুর প্রশাসক কার্তিক পাল। কালিয়াগঞ্জ শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিকলোনীর নারায়ন চক্রবর্তী নামে এক বৃদ্ধের অসহায় অবস্থার কথা ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে শনিবার রাতে নজরে আসে পুর প্রশাসকের। এই পোস্ট নজরে আসার পর রাতেই নারায়নবাবুর বাড়িতে লোক পাঠিয়ে তার সমস্যার কথা জানেন কার্তিকবাবু। দেবদূত হয়ে অসহায় বৃদ্ধের প্রয়োজনীতা মেটাতে রবিবার দুপুরে শান্তিকলোনীতে নারায়ণ চক্রবর্ত্তীর বাড়িতে হাজির হন পুর প্রশাসক। ব্যাক্তিগত অর্থে কিছু খাবার সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় অসুধপত্র বৃদ্ধ নারায়ণবাবুর হাতে তুলে দেন কার্তিক পাল।
পাশে থাকার বার্তা দিয়ে নারায়ণবাবুর আরোগ্য কামনা করেন কালিয়াগঞ্জের মানবিক পুর প্রশাসক। কালিয়াগঞ্জ শহরের শান্তিকলোনীর বাসিন্দা আনুমানিক ৭৫ বছর বয়সী নারায়ণ চক্রবর্ত্তী নিজের চিকিৎসার অসুধপত্রের জন্য অর্থের যোগার করতে অর্থব শরীর নিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। এই ঘটনা তুলে ধরে কালিয়াগঞ্জের এক মহিলা নিজের ফেসবুকে নারায়ণবাবুর ছবি পোস্ট করে সাহায্যের আবেদন রাখেন নেটিজেনদের সামনে। এই পোস্ট শনিবার সন্ধ্যায় নজরে আসে কালিয়াগঞ্জের পুর প্রশাসকের। তার শহরের বাসিন্দার বৃদ্ধের এই কষ্ট লাঘব করতে তৎপর হন মানবিক কার্তিক পাল। তবে পুর প্রশাসক হিসেবে নয়, ব্যাক্তি কার্তিক পাল হিসেবে রবিবার দুপুরে শান্তিকলোনীর বাড়িতে হাজির হয়ে নারায়ণ চক্রবর্তীর হাতে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অসুধপত্র এবং কিছু খাবার সামগ্রী তুলে দেন।
এদিন নারায়ণবাবুর পাশে দাড়িয়ে কালিয়াগঞ্জের পুর প্রশাসক কার্তিক পাল ধন্যবাদ জানান সেই মহিলাকে, যিনি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই বৃদ্ধের কথা সমাজের সামনে তুলে ধরেছেন। নেটিজেনদের প্রতি বার্তা দিয়ে এদিন কার্তিকবাবু বলেন এভাবেই প্রকৃত অসহায় মানুষদের সমস্যার কথা তুলে ধরুন। সাহায্যের জন্য তার মতো অনেকেই প্রস্তুত আছে। অপরদিকে নারায়ণবাবু আপ্লুত এভাবে শহরের পুর প্রশাসকের সহযোগিতা পেয়ে। একসময় মিষ্টির দোকানে কাজ করলেও বয়সের ভাড়ে এখন কাজ করতে পারেনা। দিল্লিতে কাজ করা এক মেয়ের পাঠানো টাকায় তার চিকিৎসার অসুধপত্রের প্রয়োজনীয়তা মিটতো। করোনার জেরে সেই মেয়ের কাজ বন্ধ হওয়াতে এখন টাকা পাঠাতে পারছেনা। এতেই নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অসুধপত্র কিনতে পাড়ছিলেন না নারায়ণবাবু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here